একটি দেশের জন্ম দিলেন- স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমান

একটি দেশের জন্ম দিলেন- স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমান

150
0
SHARE

তাজউদ্দীন:

১৯৭১ সালের ৭ ও ২৫ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা দিলেন না বাংলার দ্বিতীয় মীরজাফর শেখ মুজিব। নিজে পাকিস্তানিদের সাথে আঁতাত করে চলে গেলেন। আওয়ামীলীগের নেতারা ভারতে পালিয়ে গেলেন। বাংলাদেশের জনগণ কিংকর্তব্যবিমূঢ়। দিকনির্দেশনাহীন জাতি হানাদারদের অগ্নুৎপাতের সামনে। ২৫ মার্চ মধ্যরাত থেকে শুরু হানাদার বাহিনীর আক্রমণ। বাংলাদেশ বধ্যভূমি আর মৃত্যু উপত্যকায় পরিণত হলো। গণহত্যায় রক্তের সাগর বইয়ে দিল ইয়াহিয়া-ভুট্টো আর মুজিবের সেনারা। মুজিব চেয়েছিল ইয়াহিয়া বাংলাদেশকে দমিয়ে দিক। তারপর সে অখন্ড পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হবে। কিন্তু সে স্বপ্নপূরণ হয়নি শেখ মুজিবের। কারণ বাংলাদেশের স্থপতি তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমানের আবির্ভাব ঘটলো। মুজিবের শূন্যতা পূরণ করে দেশের নেতৃত্বে চলে এলেন দেশপ্রেমিক রাষ্ট্রনায়ক বাংলাদেশের প্রথম প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, বীর উত্তম।

২৫ মার্চ মধ্যরাত থেকে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী যখন বাংলাদেশকে ধ্বংসযজ্ঞ ও বধ্যভূমিতে পরিণত করেছে তখন নিরিহ ও দিকনির্দেশনাহীন জনগণের নেতৃত্ব নিজ কাঁধে তুলে নেন মেজর জিয়াউর রহমান, বীর উত্তম। অষ্টম ইস্ট বেঙল রেজিমেন্টের সেকেন্ড ইন কমান্ড মেজর জিয়ার নেতৃত্বে চট্টগ্রামের ষোল শহর বর্তমান বিপ্লব উদ্যান থেকে প্রথম পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করা হয়। তারপর নিজেকে বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি হিসেবে উল্লেখ করে চট্টগ্রাম কালুর ঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার মহান ঘোষণাটি দেন তিনি। আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের লাভার মতো উত্তপ্ত ও জ্বলন্ত সময়প্রবাহে মেজর জিয়ার স্বাধীনতার দীপ্ত ঘোষণাটি জাগরিত করে তোলে সারা বাংলার মুক্তিকামী মানুষকে। শুরু হয় পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্তির যুদ্ধ। মেজর জিয়ার নেতৃত্বে পাক হানাদারদের বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলে এদেশের সবশ্রেণির মুক্তিকামী মানুষ। বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি মেজর জিয়া ১৭ এপ্রিল প্রথমে ১ নং সেক্টর কমান্ডার ও পরে তিনটি সেক্টরের সমন্বয়ে নিজ নামের আদ্যাক্ষর দিয়ে গঠিত জেড ফোর্সের অধিনায়ক হিসেবে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সম্মুখ সমরে অংশ নেয়।। একদিকে রাষ্ট্রপ্রধান অন্যদিকে নিজেই রনাঙ্গনের বীরযোদ্ধা- বাংলাদেশের ইতিহাসে এমন দৃষ্টান্ত অদ্বিতীয়।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও মহান স্বাধীনতার ঘোষক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান মুজিব বা আওয়ামীলীগের মতো আত্মসমর্পণ করেননি, আত্মগোপনেও যাননি, পালিয়েও থাকেননি। তিনি যুদ্ধময় ২২টি দিন রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে যুদ্ধের নেতৃত্ব দিয়ে ১৭ এপ্রিল রাজনীতিবিদদের হাতে সে নেতৃত্ব তুলে দেন। এবং রনাঙ্গনের যুদ্ধে মনোনিবেশ করেছিলেন। জিয়াউর রহমান দেশপ্রেমিক, প্রজ্ঞাবান, দূরদর্শী ও লোভহীন রাষ্ট্রনায়ক ছিলেন বলেই অনুধাবন করছিলেন যে, যেহেতু তিনি সেনাসদস্য সেহেতু আন্তর্জাতিকভাবে এ যুদ্ধকে স্বাধীনতার যুদ্ধ না ভেবে বিদেশিরা সেনা অভ্যুত্থান ভেবে ভুল করতে পারে। সে চিন্তন থেকেই তিনি ভারতে পালিয়ে থাকা রাজনীতিবিদদের সাথে পরামর্শ করে তাদেরকে দেশের দায়িত্ব নেয়ার আমন্ত্রণ জানান। আওয়ামীলীগের পালাতক নেতারা ভারতে বসেই প্রবাসী সরকার গঠন করে। আর যে কারণে আওয়ামীলীগ দাবি করে তারা মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দানকারী দল। প্রশ্ন হলো, যুদ্ধের প্রথম ২২ টি দিনতো প্রবাসী সরকার গঠন হয়নি সেসময়ে কার নেতৃত্বে যুদ্ধ হয়েছিল? আর প্রবাসী সরকার গঠনের প্রধান কৃতিত্বতো জিয়াউর রহমানেরই। তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে, প্রথম বিদ্রোহ করে যুদ্ধ শুরু করার কারণেই প্রবাসী সরকার গঠন হতে পেরেছে। জিয়াউর রহমান ক্ষমতার লোভী হলেতো প্রবাসী সরকার গঠিত হতো না। জিয়ার মতো এমন স্বার্থহীন দেশপ্রেমিক বীরযোদ্ধার নিদর্শন এ বাংলায় অদ্বিতীয়।

জিয়াউর রহমান জন্ম না নিলে বাংলাদেশ জন্ম নিতো না। জাতি পেতো না স্বাধীন মানচিত্র।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY