ইতিহাস বিকৃতিতে হাসিনার কাছে হিটলারের লজ্জা! : তাজউদ্দীন

ইতিহাস বিকৃতিতে হাসিনার কাছে হিটলারের লজ্জা! : তাজউদ্দীন

28
0
SHARE

শেখ হাসিনাকে এখন বাংলার লেডি হিটলার নামে অভিহিত করা হয়।   আর আওয়ামীলীগকে বাংলার নাৎসীবাহিনীর দল হিসেবে অভিহিত করা হয়। কোন কোন বিক্রিত বুদ্ধিজীবী এটাকে বাড়াবাড়ি বলে মনে করেন। তাদেরকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিলেও তারা অনুধাবন করবেন না। কারন, নুন খেয়ে গুনগান না করার মতো নিমক হারাম অন্তত এসব বিক্রিত চিন্তানায়করা নন। তবুও সত্যতো জাতির সামনে প্রতিরূপিত করতেই হয়। হাসিনার হিটলারী আচরণ এখন সর্বজনবিদিত। হাসিনার প্রতিটা আচরণ হিটলার, সিসি, জামাল নাসের, চেঙ্গিস খানদের মতো। এসব স্বৈরাচারদের ইতিহাস পড়তে গেলে একজন বাংলাদেশি মানুষের মনে যে চিত্র প্রতিভাসিত হয় সে চিত্রের নায়িকা শেখ হাসিনা।

আজ হিটলারের সাথে হাসিনার একটি আচরণগত সাদৃশ্যের আলোচনা করবো।

১৯৩৩-৩৪ সালে জার্মানিতে হিটলারের নাৎসী সরকার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল হাসিনা সরকারও ২০১০ সালের ৬ জানুয়ারি সে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। আর তার খেসারত দিতে জাতি আজ অতলান্ত অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছে।

হিটলার ১৯৩৩ সালে জোসেফ গোয়েবলসকে ‘গণশিক্ষা ও প্রচারমন্ত্রী’র দায়িত্ব দেন। তিনি দায়িত্ব পেয়ে সংবাদপত্র ও পুস্তকের উপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেন। নির্দেশ জারি করেন, নাৎসিদের সমালোচনামূলক কোন কিছু প্রকাশ করা যাবে না। এবং তিনি নিজেদের প্রচার ও ভিন্নমত দমনের জন্য সরকারি রেডিও তৈরি করেন। যে রেডিও নাৎসিদের বিরুদ্ধ মতবাদের নিন্দা করতো আর নাৎসি বা আর্যদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রচার করতো। এমনকি নাৎসিরা প্রচারণামূলক বহু চলচ্চিত্রও নির্মাণ করেছিল।

নাৎসিরা ভিন্নমতের বা তাদের সরকারের জন্য যে বই হুমকি হতে পারে সেসব বই পুড়িয়ে দিয়েছিল। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাঠ্যপুস্তক নাৎসিদের মনমতো প্রণীত হয়েছিল। সেসব বইয়ে নাৎসিদের প্রচারণা এবং তাদের মনগড়া ইতিহাস নিবদ্ধ ছিল। তাদের প্রণীত ইতিহাসের বাইরের সকল ইতিহাসকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছিল।

হিটলার যে কাজ বিংশ শতাব্দীর প্রায় মাঝামাঝিতে করেছিল হাসিনা তা একবিংশ শতাব্দীতে এসে করছে। আচরণ একই। শুধু পার্থক্য স্থান ও কাল। প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে ২০১০ সালের ৬ জানুয়ারি একটা নির্দেশনামা পাঠানো হয়েছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে। সে নির্দেশনামাতে বলা হয়েছে, ‘‘স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, বিশ্ববিদ্যালয় অর্থাৎ যাবতীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে লাইব্রেরি থেকে (হাসিনার দৃষ্টিতে) বিকৃত ইতিহাস সংবলিত সব বইপুস্তক সরিয়ে নিতে হবে।’’

সে নির্দেশনামায় আরও বলা হয়েছে, ‘‘সেনাবাহিনীর প্রকাশিত বই তথ্য বিকৃতিতে ভরপুর এবং বিভ্রান্তিকর, অতিশয়োক্তি, পৌনঃপুনিকতা, নিকৃষ্ট মূল্যায়ণ, শব্দচয়নে সমস্যা, ভুলত্রুটি এবং পদ্ধতিগত সীমাবদ্ধতায় ভারাক্রান্ত।’’

আরও বলা হয়েছে, ‘‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের ঐতিহাসিক ভূমিকা (এ বইতে) ইচ্ছাকৃতভাবে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে।’’

৭ খন্ডের ‘বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ’ বইটির বিষয়ে এ নির্দেশ দেয়া হয়।

লক্ষ্য করুন, হিটলার কী করেছিল? আর হাসিনা কী করলেন? একই কাজইতো করলেন। তাহলে হাসিনাকে হিটলার বলাটা কী অতিশয়োক্তি?

আপনাদের নিশ্চয় হুমায়ূন আহমদের কথা মনে আছে? মনে আছে তাঁর শেষ উপন্যাস ‘দেয়াল’ এর কথাও। এই উপন্যাসটি মুজিব পরিবারের পজিটিভ চিত্র তুলে ধরেও রক্ষা পায়নি। আদালতের ইতিহাসের সাথে হুমায়ূন আহমদের ইতিহাস না মিলায় তাকে ঔপন্যাস পরিবর্তন করতে হয়েছিল। ঐপন্যাসিক ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট নিয়ে উপন্যাস লিখলেও সেখানে কল্পনার মিশেল না থাকলে ইতিহাস হয় কিন্তু উপন্যাসতো হয় না। সে স্বাধীনতাটুকু হাসিনার নাৎসি সরকার এরকম একজন জনপ্রিয় লেখককে দেননি। হাসিনা ইতিহাসকে আদালতের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করছে।

হাসিনার সরকার কী করলো? মুক্তযুদ্ধ নিয়ে যত ইতিহাস লেখা হয়েছে তার মধ্যে তার পছন্দমতো লেখাগুলো রেখে বাকিগুলো বাতিল করে দিয়েছে পাবলিক লাইব্রেরি থেকে শুরু করে সবগুলো লাইব্রেরি থেকে। এমনকি আওয়ামীলীগের মন্ত্রী এবং তাজউদ্দীনের কন্যার বইকেও হাসিনা মেনে নিতে পারেনি ইতিহাস তার মনমতো হয়নি বলে। সে ইতিহাসে মুজিবের মুখোশ খুলে গেছে বলে। পাঠ্যপুস্তকে সব মুজিবের মিথ্যা ইতিহাস সন্নিবিষ্ট করা হয়েছে। সেসব বই থেকে বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি ও স্বাধীনতার ঘোষক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নামটা পর্যনত উচ্চারণ করা হয়নি। হিটলার যেভাবে বই পুড়িয়েছিল হাসিনা সেভাবে বই না পুড়ালেও বই প্রকাশে বাঁধা ও নিষেধাজ্ঞা জারি করে স্বাধীন ইতিহাস চর্চার পথ রুদ্ধ করে দিয়েছে। হাসিনা তার পিতার মিথ্যা ইতিহাস জাতিকে জোর করে গলাধকরণ করতে চায়। হাসিনার ইতিহাস বিকৃতি বেঁচে থাকলে হিটলারকেও লজ্জিত করতো।

শ্রদ্ধেয় বুদ্ধিজীবীগণ, যারা হাসিনাকে হিটলার বা আওয়ামীলীগকে নাৎসির দল হিসেবে আখ্যা দিলে উন্নাসিকতা দেখান; তারা কী উপর্যুক্ত চিত্রে সাদৃশ্য পেয়েছেন নাকি বৈসাদৃশ্য পেয়েছেন?

 

 

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY