হাসিনাপুত্র জয়ের যত অপরাধসমূ: তাজউদ্দীন

হাসিনাপুত্র জয়ের যত অপরাধসমূ: তাজউদ্দীন

23
0
SHARE
শিরোনাম যদিও ‘‘হাসিনাপুত্র জয়ের যত অপরাধসমূহ…’’। কিন্তু, হাসিনার অটিস্টিক পুত্রের যত অপরাধ তার বিবরণ দিতে গেলে প্রশান্ত মহাসাগরের পানিকে কালিতে পরিণত করতে হবে। সম্প্রতি সজীব ওয়াজেদ জয়; যে নিজেকে শেখের দৌহিত্য বলে পরিচয় দেয়- তার কুখ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বব্যাপী। আধুনিক ব্যাংক ডাকাতী তত্ত্বের জনক তিনি। তিনি নানা এবং মামার সাগরেদ হিসেবে বেশ পারদর্শী। ব্যাংক ডাকাতীর সাথে সাথে তার আরওকিছু কুবিশেষণ রয়েছে- তথ্যবাবা, মিথ্যাবাবা ও মূর্খবাবা।

বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া হাসিনাপুত্র জয়ের লুট করা আড়াই হাজার কোটি টাকার তদন্ত চাওয়ায় বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী জয় তার ফেসবুক একাউন্টে বরবার স্ট্যাটাস প্রসব করেছিলেন। মৃণাল কান্তি যেভাবে তাকে অবৈধভাবে প্রসব করেছে ঠিক সেভাবেই জয় একটি স্ট্যাটাস প্রসব করেন। যে স্ট্যাটাসই প্রমাণ করেছে জয় কতটা বেয়াদব ও অথর্ব। এ যেন মৃণাল কান্তিরই প্রতিরূপ। । জয় ফেসবুকে বেগম জিয়া সহ বিভিন্ন বরেণ্য ব্যক্তিদের নামে প্রায়শই অশোভন উক্তি করেছে। তিনি বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব মাহমুদুর রহমান ও শফিক রেহমানকে নিয়েও পর্যন্ত নোংরা খিস্তি খেউড় করেছেন। তিনি বলেছেন, মাহমুদুর রহমান ও শফিক রেহমান খালেদা জিয়ার ভৃত্য। এ স্ট্যাটাসের পর সোস্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক সমালোচনার ঝড় ওঠেছিল। হাসিনা ও শফিক রেহমানের একটি পাশাপাশি ছবি ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়। যে ছবিতে দেখা যায় হাসিনা ও শফিক রেহমান পারস্পরিক আলাপচারিতায় মগ্ন। অনলাইন এক্টিভিস্টরা প্রশ্ন তুলেছেন, ‘‘হাসিনা যদি এতোই সম্মানী মানুষ হবেন তাহলে একজন চাকরের সাথে পাশাপাশি সোফায় বসে হাসিমুখে কথা বলছেন কেন? খালেদা জিয়ার ভৃত্যকেও হাসিনা এতো সম্মান করতেন?’’

এবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে ও তার প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের ২০০৭ সালের ১৭ই জুন প্রকাশিত আমাদের সময়ের একটি প্রতিবদেন প্রতিরূপিত করা হচ্ছে। যে প্রতিবেদনে জয়ের অপরাধসমূহের কিছুটা উন্মোচিত হয়েছে–
‘‘মাতাল হয়ে গাড়ি চালানো, অবৈধ অস্ত্র এবং
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাপন জয়কে খুব একটা পরিবর্তন করতে পারেনি। তার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের বেপরোয়া ভাব বার বার ফিরে এসেছে তার জীবনে। বিভিন্ন রেকর্ড খুঁজে দেখা গেছে তার বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি মামলাও হয়েছে।
তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে মাতাল হয়ে গাড়ি চলানো, অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো, রাডার ডিটেকশন ডিভাইসের অবৈধ ব্যবহার এমনকি অবৈধ অস্ত্র রাখা। এসব কৃতকর্মের জন্য তাকে কারাবাসও করতে হয়েছে, মোটা অংকের জরিমানাতো আছেই।
জয়ের জীবনে প্রেম ও বিয়ে:

শেখ হাসিনার শাসনামলে (১৯৯৬-২০০১) স্কুল জীবনের এক বান্ধবীর সঙ্গে জয়ের বাগদান হয়। কনে ভারতের এক শিখ পরিবারের মেয়ে। শেখ হাসিনা সরকারি সফরের নামে লন্ডনে গিয়েছিলেন বিয়ের কথা পাকা করতে। সঙ্গে গিয়েছিল আত্মীয়-স্বজন ও পারিবারিক বন্ধু-বান্ধব। আরও সঙ্গে নিয়েছিলেন ঢাকার বিখ্যাত ফখরুদ্দিন বাবুর্চির সহকারীদের। তবে তার একমাত্র শর্ত ছিল মেয়েকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করতে হবে। কিš’ সেই মেয়ে এতে অস্বীকৃতি জানায়। মানসিকভাবে বিপর্যস্ত শেখ হাসিনা সেদিনই সকল অনুষ্ঠান বাতিল করে দেন। তিনি সারাদিনই হোটেলে নিজেকে আবদ্ধ করে রাখেন এমনকি কারও সঙ্গে কথাও বলেননি। বিয়ের সেই অনুষ্ঠান আর হয়নি। কোনও অনুষ্ঠান না হওয়ায় অতিথিরা বিরিয়ানি না খেয়েই ঢাকায় ফিরে আসেন।
জয় বর্তমানে মার্কিন নাগরিক ক্রিস্টিন অ্যান ওভারমাইন ওরফে ক্রিস্টিনা ওয়াজেদের সঙ্গে বিয়ের বদ্ধনে আবদ্ধ। ২৬ অক্টোবর ২০০২ সালে যুক্তরাষ্ট্রে তাদের বিয়ে হয়। জনৈক রিচার্ড ডি লুমিসের সঙ্গে আগে ক্রিস্টিনের বিয়ে হয়েছিল।

গ্রেফতার এবং প্রমাণিত অভিযোসমুহ:

১৪ জুন ১৯৯৮, টেক্সাসের টারান্ট কাউন্টিতে জয় গ্রেফতার হন। তার বিরুদ্ধে অবৈধ অস্ত্র রাখা ও মাতাল অবস্থায় গাড়ি চালানোর অভিযোগ আনা হয়। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাকে ১২০ দিনের কারাবাস, ২৪ মাসের প্রোবেশন এবং ৫০০ ডলার জরিমানার আদেশ দেয়।
৬ ফেব্র“য়ারি ২০০৬, ভার্জিনিয়ার হ্যানোভার কাউন্টিতে গ্রেফতার জয় হয় । তার বিরুদ্ধে বেপরোয়া গাড়িচালানো এবং বেআইনিভাবে রাডার ডিটেকটর সঙ্গে রাখার অভিযোগ আনা হয়। সাজা একদিনের হাজতবাস এবং জরিমানা।

১৯ মার্চ ২০০০, ভার্জিনিয়ার ফেয়ারপ্যাক্স কাউন্টিতে জয় গ্রেফতার হয়। বিচারে অভিযোগ প্রমাণিত হলে আদালত তাকে ৩০ দিনের সাসপেন্ডেড কারাবাস সঙ্গে ১২ মাসের প্রোবেশন ও ৪০০ ডলার জরিমানা করা হয়।
এছাড়া ২৯ এপ্রিল ২০০১, ভার্জিনিয়ার রাপাহ্যানোক কাউন্টিতে এবং ২০ মে ২০০৪, আরলিংটন কাউন্টিতে বেপরোয়াভাবে গাড়ি চলানোর দায়ে অভিযুক্ত জয়। প্রতিটি ক্ষেত্রেই আদালতের খরচও জয়কেই বহন করতে হয়েছে।

মা ক্ষমতায় আসার পরই জয়ের পোয়াবারো:

আওয়ামী লীগ মতায় আসার পর মা যখন প্রধানমন্ত্রী হলেন, তখনই জয় ব্যবসা শুরু করলেন। তার ব্যবসা ছিল টেক্সাস ভিত্তিক ইনফোলিংক ইন্টারন্যাশনাল (নভেম্বর ’৯৮ থেকে মার্চ ’০১) এবং নোভা বিডি ইন্টারন্যাশনাল এলএলসি (মে ’৯৮ থেকে আগস্ট ২০০১) এর সঙ্গে। সমুদ্রতল দিয়ে ক্যাবল প্রজেক্টে নোভা বিডি ইন্টারন্যাশনালের এর মাধ্যমে তার সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল SEAMEWE-৪ -এর সঙ্গেও। কোনো এক মাহবুব রহমানকে সঙ্গী করে জয় টাইকো কম্যুনিকেশনের (ইউএসএ) সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন।
২০০৫-এর মার্চে জয় ওয়াজেদ কনসাল্টিং ও সিম গোবাল সার্ভিস নামের আরও দুটো কম্পানি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তবে তা হয়েছিল আওয়ামী লীগের মতা চলে যাওয়ার পর। মজার বিষয় হল, এ দুটো কোম্পানির বার্ষিক বিক্রয়ের পরিমাণ দেখানো হয়েছিল ৬১ হাজার ও ৩৫ হাজার ডলার। তারপরও জয় ২০০৬-এর ১২ মে তার নিজের নামে ৩৮১৭ বেল ম্যানর কোর্ট, ফলস চার্চ, ভার্জিনিয়া- এ ঠিকানায় ১০ লাখ ডলার দামের একটি বাড়ি কেনেন। এমনকি সেই বাড়ির মালিকানায় তার স্ত্রীর নাম ছিল না। তিনি ২ লাখ ডলার নগদ ও বাকি টাকা কিস্তিতে পরিশোধ করেন। বাড়ির আসল মূল্য লুকাতে এখানে চতুরতার পরিচয় দিয়েছেন জয়। তার আগে অবশ্য জয় তার স্ত্রীসহ যৌথ মালিকানায় ৭ লাখ ৪৯ হাজার ডলার দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আরেকটি বাড়ি কিনেছিল।

ব্যবসা যেন এক কাপ চা:

শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর জয়ের বোন সায়মা ওয়াজেদ হোসেনের (পুতুল) স্বামী খন্দকার এম হোসেনও যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবসা শুরু করেন। তবে কয়েক বছরের মধ্যেই তিনি তার ব্যবসা গুটিয়ে নেন। তার ব্যবসাগুলোর মধ্যে উলেখযোগ্য ছিল, বাংলাদেশ মেটাল এন্ড পাইপস ট্রেডিং কর্পোরেশন, সোনালী ইনকর্পোরেশন, ডগস হোলসেল ইনক, আফসানা ইনক, এবং জাম্পি কর্পোরেশন। মনে হতে পারে, তাদের দুজনের (জয় ও খন্দকার এম হোসেন) কাছে ব্যবসাটা এক কাপ চায়ের মতোই। তবে দুজনের কেউই ব্যবসায় খুব একটা অর্থের মুখ দেখেননি। অথচ ব্যবসায় দুজন আর্থিক সঙ্কটে ভূগেছেন, এমনটাও শোনা যায়নি। হয়তো বা মায়ের আশীর্বাদেই।

যুক্তরাষ্ট্রে পুতুল ও তার স্বামীর তিনটি বাড়ি:

সায়মা ওয়াজেদ হোসাইন, ডাক নাম পুতুল। শেখ হাসিনার কন্যা ও জয়ের ছোট বোন। স্বামী খন্দকার মাহাবুব হোসেনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে তার উলেখযোগ্য পরিমাণে সম্পদ রয়েছে। হুট করে নয়, বিভিন্ন সময়ে ধীরেসুস্থেই তারা একটি একটি করে সম্পদের মালিক বনেছেন। আর এ কারণেই সব সময় আলোচনা-সমালোচনার আড়ালে থেকেছেন তারা। ব্যবসায়ে লাভের পরিমাণ নামমাত্র দেখালেও পুতুল ও তার স্বামী খন্দকার মাহাবুব বাড়ি কিনেছেন লাখ ডলার দিয়ে। তাও একটি নয়, যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডাতে তাদের দুজনের নামে রয়েছে তিনটি বিলাসবহুল বাড়ি।
৪৫৬ নর্থ বে পয়েন্ট ওয়ে, জ্যাকসনভিল, ফোরিডা। এটি একটি ছোট বাসভবন। মালিকানা পুতুল ও তার স্বামী দুজনেরই। ২০০৫-এর ১ নভেম্বর ২ লাখ ৪৫ হাজার ডলার ব্যয়ে তারা এটি মেরিল এন্ড প্রিসসিলা কিংয়ের কাছ থেকে কিনেছিলেন।
৮৪৫ ইয়র্ক ওয়ে, মেইটল্যান্ড, ফোরিডা। এটিও একটি ছোট পরিবার ঘরানার বাড়ি। মালিক দুজনেই। মূল্য ৩ লাখ ১১ হাজার ডলার।
২০৬৫ ডবলিউ ১১৯ এভিনিউ, মিরামার, ফোরিডা। এ ভবনটিরও মালিক স্বামী-স্ত্রী। কেনা হয়েছিল ’৯৮’র ২৮ অক্টোবর। বাড়িটির দাম তখন ছিল ১ লাখ ৫৪ হাজার ৩শ ডলার।

…উপর্যুক্ত প্রতিবেদনে জয়ের অপরাধসমূহ উন্মোচিত হয়েছে। যে নাকি আওয়ামীলীগের আগামীর কান্ডারি। একজন লম্পট, ব্যাংক ডাকাত, মাতাল এবং প্রতিবন্ধী জয়ের হাতে আওয়ামীলীগ বা দেশের নেতৃত্ব তুলে দেয়া কতটা সমীচীন হবে ভেবে দেখেছেন কী???

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY