নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসন মিলিতভাবে আ’লীগকে জেতানোর জন্য কাজ করছে – বিএনপি

নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসন মিলিতভাবে আ’লীগকে জেতানোর জন্য কাজ করছে – বিএনপি

113
0
SHARE

নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসন মিলিতভাবে ক্ষমতাসীন আ’লীগকে জেতানোর জন্য কাজ করে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। গতকাল রোববার দুপুরে নির্বাচন কমিশনে গিয়ে সাংবাদিকদের কাছে একথা বলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। নির্বাচন কমিশনের কর্তৃত্ব নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, নির্বাহী বিভাগ, সরকার এবং ক্ষমতাসীন দল যা বলছে নির্বাচন কমিশন তা-ই করে যাচ্ছে।

গতকাল দুপুরে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, অর্থ বিষয়ক সম্পাদক এম এ সালাম ও সহদফতর সম্পাদক তায়েবুল ইসলাম নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে যান। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপে প্রার্থিতা প্রত্যাহারে বাধ্য করা, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ায় বাধাসহ নানা অভিযোগ নিয়ে নির্বাচন কমিশনে চিঠি দিয়েছে বিএনপি। কমিশন থেকে বের হয়ে রিজভী সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করে বলেন, নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসন মিলিতভাবে ক্ষমতাসীন দলকে জেতানোর জন্য কাজ করে যাচ্ছে। বিভিন্ন জায়গায় বিএনপির প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাতিল করে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের জিতিয়ে দিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। এখন পর্যন্ত ১১৪ ইউপিতে বিএনপির প্রার্থী নেই। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন (ইসি) সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হলেও এর কোন কর্তৃত্ব নেই।

রিজভী অভিযোগ করেন, প্রথম ধাপের নির্বাচনে অন্তত ১১৪টি ইউনিয়নে বিএনপির কোনো প্রার্থী নেই। এসব জায়গায় কোথাও কোথাও বিএনপির প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা নেওয়া হয়নি, আবার কোথাও কোথাও বাতিল করা হয়েছে।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা বিএনপি প্রার্থীদের বাধা এবং বাসা-বাড়িতে হামলা চালাচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের বিষয়গুলো জানানো হলেও এ পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের কোনো মেরুদণ্ড নেই। তারা সরকারের আজ্ঞাবহ। ইউপিতে ক্ষমতাসীনদের একচেটিয়া দখল করে নেওয়ার যে ইচ্ছা, তাতে সিল মোহর দেওয়ার জন্য কাজ করছে ইসি। ইসি এখন নির্বাহী বিভাগের ইচ্ছা পালন করছে।

এদিকে প্রার্থীদের বাধা ও প্রত্যাহারে চাপ দেওয়ার বিষয়ে বিএনপির অভিযোগকে ‘ঢালাও ও সুনির্দিষ্ট নয়’ বলে মন্তব্য করেছেন ইসি সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম। বিএনপি চিঠি দেওয়ার পর তিনি সাংবাদিকদের বলেন, বিভিন্ন পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হচ্ছে। কিন্তু অভিযোগগুলো ঢালাও। কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ নয়। আমাদের কাছে আজ পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আসেনি।

এক প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব বলেন, দলটির একটি অভিযোগও আসেনি যে, ওই সময়, ওই জায়গায় অমুক ব্যক্তি ওই ঘটনাটি ঘটিয়েছে। আমি বলছি না বিএনপির অভিযোগ ভিত্তিহীন। তবে অভিযোগ সুনির্দিষ্ট হতে হবে। এজন্য আমি তিনটি তথ্য চাই। কে, কোথায় এবং কখন ঘটিয়েছে। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এলে নির্বাচন কমিশন তা দেখবে এবং ব্যবস্থা নেওয়া হবে, বলেন ইসি সচিব। সব নির্বাচনে ইসির ভূমিকা সব সময় নিরপেক্ষ ভূমিকা। ইসি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থেকে এ নির্বাচনগুলো পরিচালনা করছে। ইউপি নির্বাচনও সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থেকে পরিচালনা করবে।

আলোচনা সভা: এদিকে গতকাল রোববার বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবের হল রুমে খালেদা জিয়া ও গয়েশ্বরের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহী মামলার প্রতিবাদে যুবদল দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় রুহুল কবির রিজভী বলেন, ইসি হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর পোষা ছাগল। এই ছাগলের দড়ি থাকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে। ইসি যখন একটু নড়াচড়া করেন ঠিক তখনি ওই দড়ি ধরে টান দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি আরো বলেন, বিএনপির ষষ্ঠ কাউন্সিল ১৯ মার্চে অনুষ্ঠিত হবে। কিন্তু কাউন্সিল করতে সরকার আমাদেরকে বাধা দিচ্ছে এবং কোনো স্থান দিচ্ছে না। সবকিছু যুবলীগ ও ছাত্রলীগ দখল করে নিয়েছে। তাহলে আমরা কাউন্সিল কোথায় করব- বুড়িগঙ্গা নাকি খোলা স্কুল প্রাঙ্গণে।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY